৪ সম্পাদকসহ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রাবি ছাত্রদল নেতার মামলা

5 hours ago 5
ARTICLE AD BOX

সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রায় এক বছর পর চারটি গণমাধ্যমের সম্পাদক ও এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব। তবে অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মামলাটি এখনো নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।

গত ১১ জুলাই মতিহার থানায় দেওয়া অভিযোগে রাবি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহসভাপতি মারুফ হোসেন মিশনসহ চারটি গণমাধ্যমের সম্পাদককে বিবাদী করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরে জব্দ থাকা এক ব্যবসায়ীর ফুডকার্ট প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে স্টোর শাখা থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবের বিরুদ্ধে। ফুডকার্ট ফিরে পেতে ব্যবসায়ী আক্তার সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাইলে বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর ফুডকার্টটি ব্যবসায়ীর কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

এর প্রায় নয় মাস পর, ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় বহিরাগতদের নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠে একই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসসহ ২০-২৫টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এই দুটি সংবাদ প্রকাশের জেরেই ১১ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করেন হাসিবুল ইসলাম হাসিব। মামলায় তিনি দাবি করেন, তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর রাবি প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, সকালের বুলেটিন-এর সম্পাদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সম্পাদক, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর সম্পাদক, এনটিভি অনলাইন-এর সম্পাদক এবং ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী হাসানকে।

ফুডকার্টসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে মামলার এজাহারে হাসিব দাবি করেছেন, তিনি ফুডকার্টের মালিককে সেটি ফিরে পেতে সহায়তা করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট ফুডকার্টটি ফেরত নেওয়ার জন্য তার (হাসিব) নিজের হাতেলেখা আবেদনপত্রের কপি এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। যা তার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া ছুরিকাঘাতের ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। তবে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বলেন, সেসময় ছাত্রদল নেতা হাসিব উপস্থিত ছিলেন এবং তার উপস্থিতিতে হামলা করে হয়।

বিবাদী সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন বলেন, যে দুই নিউজের জন্য আমার নামে মামলা করা হয়েছে তা ২০-২৫ জন সাংবাদিক কভার করেছিল। কিন্তু তিনি শুধু আমার বিরুদ্ধেই মামলা করেছেন। যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানি করার জন্য করা হয়েছে। ওই নিউজ দুটোর শতভাগ প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। ওই ছাত্রদল নেতা ফুডকার্টটির মালিকানা দাবি করে নিজের হাতে আবেদন করেছিলেন। যা আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া ভুক্তভোগী ও এস্টেট দপ্তরের বক্তব্যও আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি, আইন অনুযায়ী লড়তে প্রস্তুত আছি। মামলার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখা যায় না।

শুধু আপনার বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছে তাদের নিয়ে আমি কয়েকটি নিউজ করেছিলাম। এর ভেতরে তিনটি নিউজের অভিযুক্তরা ছিল ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এজন্য ছাত্রদলের ওই নেতা আমাকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্যই মামলা করেছে; যাতে অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারীদের নিয়ে আর নিউজ না করি। নিউজ করছেন ২৫ জনের বেশি সাংবাদিক। অথচ মামলা করা হলো শুধু আমার নামে। আমি এর ধিক্কার জানাই।

একাধিক পোর্টালে নিউজ পাবলিশ হলেও মামলা করা হয়েছে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা হাসিব বলেন, সে সাংবাদিক পরে, আগে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আমরা ভাই-ভাই। তবে ছাত্রদলের কোনো কিছু হলে, কোনো কথা গেলেই সে মনগড়া, যতরকম যা যা বলতে পারে ইচ্ছাকৃতভাবে সব তুলে ধরে যাচাই-বাছাই না করে। যেকোনো অপপ্রচার, মিথ্যা, প্রপাগান্ডা সব ওই শুরু করে। তারপর ওর নিউজ থেকে অন্যরা কপি করে।

ফুডকার্ট চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, যার ফুডকার্ট তাকে বরং আমি সেটা ফিরে পেতে সাহায্য করেছি। তার হয়ে আমি আবেদন করেছিলাম, তবে সেটা সে জানত না। সেজন্য একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে বুঝিয়ে দিয়েছি।

ছুরিকাঘাতের বিষয়ে তিনি বলেন, যে ছেলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সে আগে ছাত্রলীগ করত। এখন নতুন করে ছাত্রদলের রাজনীতিতে এসেছে। সে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে৷ রাজনীতি প্রতিহিংসার, তাকে দিয়ে অন্যকেউ এ কাজটা করিয়েছে।

এত দেরিতে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ধৈর্য ধরেছি, চেষ্টা করেছি এগুলো থামানোর জন্য। কিন্তু তিনি একটার পর একটা অপপ্রচার চালিয়েই যাচ্ছে। শেষমেষ আমি আমার পরিবার ও সংগঠনের সাথে কথা বলে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সদস্য জানান, কেউ মামলা করলে তা প্রথমে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হয়। অনুসন্ধান করা হয় ঘটনা সত্য কি না। মামলার এজাহারে যে বিষয়গুলো বাদী এনেছেন, তার তেমন কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। এজন্য মামলা এখনও গ্রহণ করিনি। তবে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, মামলা করার বিষয়টি সে আগে আমাকে জানিয়েছিল। প্রথমে আমরা বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিইনি। পরে সে জানায়, তাকে পরিকল্পিতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। তখন আমি তাকে বলেছিলাম, সংগঠন হিসেবে আমরা বিচার করতে পারব না; চাইলে ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে পারে। পরে সে জিডি করার কথা বললে আমি বলি, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে মামলা করতে বলা হয়নি।

কেএইচকে

Read Entire Article