ARTICLE AD BOX
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বৃষ্টির বাগড়া থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেলেও বর্তমানে আতঙ্কের নাম মশা। জলাবদ্ধতার পানি পুরোপুরি না সরতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে মশার উপদ্রব। জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও অকার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার শঙ্কায় রয়েছে মানুষ।
রাস্তা, ড্রেন, খালি প্লট, নির্মাণাধীন ভবন, কারখানার আশপাশ এবং বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা পানিতে বেড়ে গেছে মশার বংশবিস্তার। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
উপজেলার তারাবো, কাঞ্চন পৌরসভা এবং ভুলতা, গোলাকান্দাইল ও মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক ড্রেন, খালি প্লট, নির্মাণাধীন ভবন, বাড়ির আঙিনা এবং সড়কের পাশে জমে থাকা পানি এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। অনেক সড়ক, নালা এবং বিভিন্ন স্থাপনার পাশে এখনো বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। ড্রেনে আবর্জনা আটকে থাকায় পানি নামছে না। আবার কোথাও পরিত্যক্ত পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। এসব স্থানই মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এখন মশার উপদ্রব কয়েকগুণ বেড়েছে। সন্ধ্যার পর দরজা-জানালা খুলে রাখা যায় না। ছোট শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। অনেক পরিবার প্রতিদিন কয়েল, অ্যারোসল ও বৈদ্যুতিক ব্যাট ব্যবহার করেও স্বস্তি পাচ্ছেন না।
‘সারাদিন কারখানায় কাজ করে বাড়ি এসে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। মশার কারণে দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হয়। কয়েল জ্বালিয়েও মশা থেকে রেহাই পাচ্ছি না। ডেঙ্গুর ভয়ে ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ড্রেন পরিষ্কার এবং মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। অনেক এলাকায় মাঝে মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেন তারা। বিশেষ করে জলাবদ্ধ এলাকায় লার্ভা ধ্বংসে নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় সমস্যা থেকে যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু ধোঁয়া ছিটিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধন করলেই হবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা পরিষ্কার বা আধা-পরিষ্কার স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, এসির ট্রে, ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

নাদিয়া নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘সন্ধ্যা হলেই ঘরে থাকার চেষ্টা করি। কয়েলের ওপর ভরসা পাই না। ডেঙ্গু মশা থেকে বাঁচতে ছোট ছেলে-মেয়েদের জন্য মশারি টাঙিয়ে রাখি।’
‘আমার বাচ্চার জ্বর হলে প্রথমেই ডেঙ্গুর ভয় কাজ করে। এলাকায় মশার জন্য প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে থাকতে হয়। বৃষ্টি থামার পর ভাবছিলাম স্বস্তি মিলবো। কিন্তু এখন মশার ভয়ে আর পারছি না’
রোকন মিয়া নামের একজন অভিভাবক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার বাচ্চার জ্বর হলে প্রথমেই ডেঙ্গুর ভয় কাজ করে। এলাকায় মশার জন্য প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে থাকতে হয়। বৃষ্টি থামার পর ভাবছিলাম স্বস্তি মিলবো। কিন্তু এখন মশার ভয়ে আর পারছি না।’
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কর্মজীবী নারী ফারজানা আক্তার। তিনি বলেন, ‘সারাদিন কারখানায় কাজ করে বাড়ি এসে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। মশার কারণে দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হয়। কয়েল জ্বালিয়েও মশা থেকে রেহাই পাচ্ছি না। ডেঙ্গুর ভয়ে ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন ডেঙ্গুর সিজন।এসময় যেন আশপাশে কোনো পানি জমা না থাকে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, অব্যবহৃত টায়ার, এসির ট্রে, কিংবা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা জরুরি। একটু বড় জামা-কাপড় পড়তে হবে, যেগুলোতে হাত আর পা ঢেকে রাখে।’
হাসপাতালে প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় আমরা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক একটি ওয়ার্ড তৈরি রেখেছি। এখানে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে হাসপাতালে সাতজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা যে পরিমাণে ওষুধ কিনি আর যে পরিমাণে ছিটাই—এটার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। তারপরও যেসব জায়গায় অনেক রিস্কি, আমরা সেগুলোতে মশার ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা নিয়েছি। একইসঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে।’
এসআর/এএসএম








English (US) ·