ARTICLE AD BOX
দক্ষ মানবসম্পদ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, দেশের মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া গেলে তারা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে শ্রম অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে সচেতন করে তোলা জরুরি।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত শ্রম ভবনে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস, ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক এবং প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ফরহাদ সিদ্দিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রমমন্ত্রী বলেন, দেশের মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া গেলে তারা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তিনি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে শ্রম অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, শ্রমিকবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সংস্কৃতি গড়ে তোলা, শ্রম প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাগত বক্তব্যে ফরহাদ সিদ্দিক বলেন, শ্রমিকদের সম্মিলিত অবদানেই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে শোভন কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, শ্রম প্রশাসনকে শক্তিশালী করা এবং শ্রমখাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে অধিদপ্তর ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় মোট ছয়জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সীমান্ত চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শামান্তা জিনিয়া এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী ফাওজিয়া ইসলাম মারিয়া বিজয়ী হন।
অন্যদিকে, কলেজ পর্যায়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আসফী নুরেন নাজিহা, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামউন হায়দার এবং চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সামিরা মেহনাজ নুসরাত বিজয়ী হন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
বক্তারা শ্রমিকের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শ্রমিকের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি উন্নত, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারা উল্লেখ করেন।
আইএইচও/এমকেআর








English (US) ·