ARTICLE AD BOX
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইন্সকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেছে বিজেপি। তবে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, গত সাড়ে চার বছরে রাজ্যে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।
বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি প্রশ্ন তোলেন, পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন? নৈতিকতার প্রশ্নে অরবিন্দ কেজরিওয়াল কবে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইবেন?
বিজেপির অভিযোগ, পাঞ্জাব স্কুল এডুকেশন বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা, পাঞ্জাব স্টেট টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট এবং কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পাঞ্জাব সাবঅর্ডিনেট সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ডের গ্রুপ-বি নিয়োগ ও সম্মিলিত নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে দলটি।
এ ছাড়া নাইব তহসিলদার ও ফার্মাসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় বড় ধরনের নকলের অভিযোগও করেছে বিজেপি। এক্সাইজ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন ইন্সপেক্টর নিয়োগের মেধাতালিকায় ভুয়া নাম থাকার অভিযোগও তুলেছে তারা।
পাঞ্জাব কংগ্রেসের সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিংও গত চার বছরে রাজ্যে ছয়টি বড় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত বেইন্স কবে পদত্যাগ করবেন? চার বছর, ছয়টি বড় প্রশ্নফাঁস, অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ধ্বংস—তবু কোনো জবাবদিহি নেই। পাঞ্জাবের শিক্ষার্থীরা উত্তর চান, জবাবদিহি চান এবং ভালো ভবিষ্যৎ চান।
তবে বিজেপি ও কংগ্রেসের এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বলেন, গত সাড়ে চার বছরে রাজ্যে একটিও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। তার দাবি, পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা ধরা পড়লেও সেটিকে প্রশ্নফাঁস বলা যাবে না।
ভগবন্ত মান বলেন, গত সাড়ে চার বছরে পাঞ্জাবে একটিও প্রশ্নফাঁস হয়নি। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, ভবিষ্যতেও পাঞ্জাবে কোনো প্রশ্নফাঁস হবে না। এটি আমার গ্যারান্টি।
তিনি জানান, দুটি স্থানে পরীক্ষায় নকলের ঘটনা ধরা পড়েছিল। তবে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা দুটি জায়গা থেকে নকলের খবর পেয়েছিলাম। কিন্তু কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি এবং নকল চক্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছি।
পাঞ্জাবের আরেক এএপি নেতা বালতেজ পান্নুও বিজেপি ও কংগ্রেসের অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, একটি ঘটনায় কয়েকজন পরীক্ষার্থী ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করার সময় ধরা পড়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।
বালতেজ পান্নুর অভিযোগ, বিজেপি ও কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে নকলের ঘটনাকে প্রশ্নফাঁস বলে প্রচার করছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সময়ের বিভিন্ন বিষয় থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে চাইছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সময় ৯০টিরও বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। এখন সেই দায় এড়াতেই বিজেপি অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।
পাঞ্জাবকে ঘিরে এই নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের প্রতিবাদে এক মাস ধরে দিল্লিতে আন্দোলন চলার পর শনিবার পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
তার পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএসএম








English (US) ·